০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রামীণ স্যানিটেশন প্রকল্পের ৬০% ল্যাট্রিন রাজনৈতিক বিবেচনায়

মোঃ হাসান হাওলাদার( কমলনগর -লক্ষ্মীপুর) :

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় গ্রামীণ স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত ল্যাট্রিন বিতরণে ভয়াবহ অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দরিদ্রদের জন্য উন্নত ‘টুইন পিট ল্যাট্রিন’ বিনামূল্যে বিতরণের কথা থাকলেও, বরাদ্দের সিংহভাগই স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল ও উপজেলা কমিটির পকেটে চলে যাচ্ছে বলে জানা যায়,
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে ১০০টি করে মোট ৯০০টি ল্যাট্রিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর দাবি, তারা বরাদ্দের অর্ধেকও হাতে পায়নি। অভিযোগ উঠেছে, মোট ৯০০টি ল্যাট্রিনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে মাত্র ৩৬০টি বিতরণ করা হচ্ছে। বাকি ৫৪০টি ল্যাট্রিন (যা মোট বরাদ্দের ৬০ শতাংশ) উপজেলা কমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দিয়েছে।
চর কাদিরা ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান হারুন আর রশিদ বলেন, “পরিষদের ১৩ জন সদস্যের জন্য মাত্র ৪০টি ল্যাট্রিন দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে পেয়েছি মাত্র ৩টি। এই সামান্য সংখ্যক ল্যাট্রিন কাকে দেব তা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছি।”
চর কালকিনি ইউপি সচিব শাহাদাৎ হোসেন জানান, মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ৪০টি দেওয়া হয়েছে, বাকি ৬০টি নেতা ও কমিটি নেবে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তা পানেদা আক্তার স্বীকার করেছেন যে, কমিটির সিদ্ধান্তে প্রতি ইউনিয়নে ৪০টি করে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬০টি করে উপজেলা কমিটির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। তিনি দাবি করেন, “সারা বাংলাদেশে এই সিস্টেমেই কাজ চলছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাহাত উজ জামান বলেন, “ইউনিয়নগুলোতে ৪০টি করে দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো আমাদের কাছে আছে। কিছু আবেদন পেয়েছি যাচাই-বাছাই করে আমরা সেগুলো বিতরণ করব।”
DPHE-এর নকশা অনুযায়ী উন্নত মানের সামগ্রী দেওয়ার কথা থাকলেও ভাগ-বাটোয়ারার কারণে সরঞ্জামের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, সাধারণ মানুষের দাবি, দুর্নীতির তদন্ত করে প্রকৃত দুস্থদের মাঝে এই ল্যাট্রিনগুলো পৌঁছে দেওয়া হোক। অন্যথায় পরিবেশবান্ধব স্যানিটেশন নিশ্চিত করার সরকারি লক্ষ্য ভেস্তে যাবে।
মোট বরাদ্দ: ৯০০ ল্যাট্রিন।
ইউপি পেয়েছে: ৩৬০টি (৪০%)।
কমিটির দখলে: ৫৪০টি (৬০%)।
অভিযোগ: রাজনৈতিক প্রভাব ও কমিটির।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

গ্রামীণ স্যানিটেশন প্রকল্পের ৬০% ল্যাট্রিন রাজনৈতিক বিবেচনায়

আপডেটের সময় : ০২:০৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

মোঃ হাসান হাওলাদার( কমলনগর -লক্ষ্মীপুর) :

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় গ্রামীণ স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত ল্যাট্রিন বিতরণে ভয়াবহ অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দরিদ্রদের জন্য উন্নত ‘টুইন পিট ল্যাট্রিন’ বিনামূল্যে বিতরণের কথা থাকলেও, বরাদ্দের সিংহভাগই স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল ও উপজেলা কমিটির পকেটে চলে যাচ্ছে বলে জানা যায়,
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে ১০০টি করে মোট ৯০০টি ল্যাট্রিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর দাবি, তারা বরাদ্দের অর্ধেকও হাতে পায়নি। অভিযোগ উঠেছে, মোট ৯০০টি ল্যাট্রিনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে মাত্র ৩৬০টি বিতরণ করা হচ্ছে। বাকি ৫৪০টি ল্যাট্রিন (যা মোট বরাদ্দের ৬০ শতাংশ) উপজেলা কমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দিয়েছে।
চর কাদিরা ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান হারুন আর রশিদ বলেন, “পরিষদের ১৩ জন সদস্যের জন্য মাত্র ৪০টি ল্যাট্রিন দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে পেয়েছি মাত্র ৩টি। এই সামান্য সংখ্যক ল্যাট্রিন কাকে দেব তা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছি।”
চর কালকিনি ইউপি সচিব শাহাদাৎ হোসেন জানান, মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ৪০টি দেওয়া হয়েছে, বাকি ৬০টি নেতা ও কমিটি নেবে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তা পানেদা আক্তার স্বীকার করেছেন যে, কমিটির সিদ্ধান্তে প্রতি ইউনিয়নে ৪০টি করে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬০টি করে উপজেলা কমিটির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। তিনি দাবি করেন, “সারা বাংলাদেশে এই সিস্টেমেই কাজ চলছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাহাত উজ জামান বলেন, “ইউনিয়নগুলোতে ৪০টি করে দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো আমাদের কাছে আছে। কিছু আবেদন পেয়েছি যাচাই-বাছাই করে আমরা সেগুলো বিতরণ করব।”
DPHE-এর নকশা অনুযায়ী উন্নত মানের সামগ্রী দেওয়ার কথা থাকলেও ভাগ-বাটোয়ারার কারণে সরঞ্জামের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, সাধারণ মানুষের দাবি, দুর্নীতির তদন্ত করে প্রকৃত দুস্থদের মাঝে এই ল্যাট্রিনগুলো পৌঁছে দেওয়া হোক। অন্যথায় পরিবেশবান্ধব স্যানিটেশন নিশ্চিত করার সরকারি লক্ষ্য ভেস্তে যাবে।
মোট বরাদ্দ: ৯০০ ল্যাট্রিন।
ইউপি পেয়েছে: ৩৬০টি (৪০%)।
কমিটির দখলে: ৫৪০টি (৬০%)।
অভিযোগ: রাজনৈতিক প্রভাব ও কমিটির।