০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গৃহবধূর স্বামী’ই ৫ খুনের খুনি!

ডেস্ক নিউজ : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় পরতে পরতে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসছে লোমহর্ষক সব তথ্য। ঘটনাস্থল থেকে মাদক সেবনের আলামত এবং মরদেহের পাশ থেকে রহস্যময় প্রিন্ট করা কাগজ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই নিহত গৃহবধূর স্বামী ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শনিবার (৯ মে) সকালে ওই বাড়ি থেকে তাদের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে ভাড়াটিয়া ফোরকানের স্ত্রী, তিন সন্তান ও তার এক শ্যালক রয়েছেন।

ঘটনাস্থল থেকে জানা যায়, ফোরকানের স্ত্রীকে জানালার সাথে বেঁধে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল ২ থেকে ৫ বছর বয়সি তিন অবুঝ শিশুর গলাকাটা মরদেহ। আর খাটের ওপর ফোরকানের শ্যালকের গলাকাটা মরদেহ পাওয়া যায়। বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে মাদক সেবনের বেশ কিছু আলামতও জব্দ করেছে পুলিশ।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বাড়ির ভেতরে যে তিনটি স্থানে মরদেহগুলো পড়ে ছিল, তার প্রতিটি জায়গাতেই মরদেহের পাশে প্রিন্ট করা কাগজ পাওয়া গেছে। এসব কাগজের বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা না গেলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সেগুলো কোনো মামলার নথিপত্র।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সবাইকে স্বাভাবিকভাবে দেখা গেছে। প্রতিবেশীরা জানান, ফোরকান ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। সেই বিরোধের জেরেই তিনি স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা কাজ করছে। বর্তমানে ওই বাড়িতে সাধারণের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ভেতরে পুলিশের ফরেনসিক দল আলামত সংগ্রহের কাজ করছে। চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক এ ঘটনায় পুরো গাজীপুর জেলায় ব্যাপক আলোড়ন ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটনে একাধিক সংস্থা কাজ করছে। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছি।’

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

গৃহবধূর স্বামী’ই ৫ খুনের খুনি!

আপডেটের সময় : ০৬:২০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

ডেস্ক নিউজ : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় পরতে পরতে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসছে লোমহর্ষক সব তথ্য। ঘটনাস্থল থেকে মাদক সেবনের আলামত এবং মরদেহের পাশ থেকে রহস্যময় প্রিন্ট করা কাগজ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই নিহত গৃহবধূর স্বামী ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শনিবার (৯ মে) সকালে ওই বাড়ি থেকে তাদের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে ভাড়াটিয়া ফোরকানের স্ত্রী, তিন সন্তান ও তার এক শ্যালক রয়েছেন।

ঘটনাস্থল থেকে জানা যায়, ফোরকানের স্ত্রীকে জানালার সাথে বেঁধে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল ২ থেকে ৫ বছর বয়সি তিন অবুঝ শিশুর গলাকাটা মরদেহ। আর খাটের ওপর ফোরকানের শ্যালকের গলাকাটা মরদেহ পাওয়া যায়। বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে মাদক সেবনের বেশ কিছু আলামতও জব্দ করেছে পুলিশ।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বাড়ির ভেতরে যে তিনটি স্থানে মরদেহগুলো পড়ে ছিল, তার প্রতিটি জায়গাতেই মরদেহের পাশে প্রিন্ট করা কাগজ পাওয়া গেছে। এসব কাগজের বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা না গেলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সেগুলো কোনো মামলার নথিপত্র।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সবাইকে স্বাভাবিকভাবে দেখা গেছে। প্রতিবেশীরা জানান, ফোরকান ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। সেই বিরোধের জেরেই তিনি স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা কাজ করছে। বর্তমানে ওই বাড়িতে সাধারণের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ভেতরে পুলিশের ফরেনসিক দল আলামত সংগ্রহের কাজ করছে। চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক এ ঘটনায় পুরো গাজীপুর জেলায় ব্যাপক আলোড়ন ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটনে একাধিক সংস্থা কাজ করছে। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছি।’