০৬:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসপাতালে লিফটের কাছে নারীর লাশ

মিজান রশিদ মিজান-কক্সবাজার: হাসপাতালের ভেতর লাশ! এ কেমন নিরাপত্তা, এ কেমন উদাসীনতা?
কক্সবাজার সদর হাসপাতাল। যে জায়গাটিকে মানুষ শেষ ভরসার আশ্রয় মনে করে, যেখানে অসুস্থ মানুষ সুস্থ হওয়ার আশা নিয়ে যায়—সেই হাসপাতাল থেকেই একজন নারী নিখোঁজ হন। আর চার দিন পর তার মরদেহ পাওয়া যায় হাসপাতালের লিফটের নিচের একটি কক্ষ থেকে!

ঘটনাটি শুধু মর্মান্তিক নয়, এটি ভয়ংকর প্রশ্নের জন্ম দেয়।

উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকার কাতার প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী কোহিনুর আক্তার গত বুধবার দুপুরে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হন। পরিবার খুঁজেছে, স্বজনরা ছুটেছে এক ওয়ার্ড থেকে আরেক ওয়ার্ডে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মেলেনি কোনো কার্যকর সহায়তা।

অবশেষে চার দিন পর ৭ মার্চ শনিবার হাসপাতালের লিফটের নিচের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এখানে কয়েকটি প্রশ্ন খুব স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে।
প্রথমত, একটি সরকারি হাসপাতালে চার দিন ধরে একটি মরদেহ পড়ে থাকবে, অথচ কেউ টের পাবে না—এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?

দ্বিতীয়ত, হাসপাতালে কি কোনো নিয়মিত তদারকি নেই? নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা—তারা কি কেউই সেই জায়গায় যায়নি?

তৃতীয়ত, একজন মানুষ হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরও কেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোনো জরুরি অনুসন্ধান বা সতর্কতা দেখা গেল না?

এ ঘটনা শুধু একটি পরিবারের শোক নয়। এটি পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

হাসপাতাল যদি মানুষের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা না হয়, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?

কোহিনুর আক্তারের মৃত্যু কেবল একটি মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি অবহেলা, দায়িত্বহীনতা এবং ব্যবস্থাপনার চরম ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
এই ঘটনায় নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত জরুরি। হাসপাতালের ভেতরে কী ঘটেছে, কেন চার দিন ধরে মরদেহ সেখানে পড়ে ছিল, কারা দায়িত্বে ছিল—সবকিছু খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না করলে এ ধরনের ঘটনা আবারও ঘটবে।
কারণ একটি সত্য এখন স্পষ্ট—
যেখানে একজন মানুষ হাসপাতালের ভেতরেই নিখোঁজ হয়ে চার দিন পর লাশ হয়ে ফিরে আসে, সেখানে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

হাসপাতালে লিফটের কাছে নারীর লাশ

আপডেটের সময় : ১১:৪৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

মিজান রশিদ মিজান-কক্সবাজার: হাসপাতালের ভেতর লাশ! এ কেমন নিরাপত্তা, এ কেমন উদাসীনতা?
কক্সবাজার সদর হাসপাতাল। যে জায়গাটিকে মানুষ শেষ ভরসার আশ্রয় মনে করে, যেখানে অসুস্থ মানুষ সুস্থ হওয়ার আশা নিয়ে যায়—সেই হাসপাতাল থেকেই একজন নারী নিখোঁজ হন। আর চার দিন পর তার মরদেহ পাওয়া যায় হাসপাতালের লিফটের নিচের একটি কক্ষ থেকে!

ঘটনাটি শুধু মর্মান্তিক নয়, এটি ভয়ংকর প্রশ্নের জন্ম দেয়।

উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকার কাতার প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী কোহিনুর আক্তার গত বুধবার দুপুরে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হন। পরিবার খুঁজেছে, স্বজনরা ছুটেছে এক ওয়ার্ড থেকে আরেক ওয়ার্ডে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মেলেনি কোনো কার্যকর সহায়তা।

অবশেষে চার দিন পর ৭ মার্চ শনিবার হাসপাতালের লিফটের নিচের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এখানে কয়েকটি প্রশ্ন খুব স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে।
প্রথমত, একটি সরকারি হাসপাতালে চার দিন ধরে একটি মরদেহ পড়ে থাকবে, অথচ কেউ টের পাবে না—এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?

দ্বিতীয়ত, হাসপাতালে কি কোনো নিয়মিত তদারকি নেই? নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা—তারা কি কেউই সেই জায়গায় যায়নি?

তৃতীয়ত, একজন মানুষ হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরও কেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোনো জরুরি অনুসন্ধান বা সতর্কতা দেখা গেল না?

এ ঘটনা শুধু একটি পরিবারের শোক নয়। এটি পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

হাসপাতাল যদি মানুষের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা না হয়, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?

কোহিনুর আক্তারের মৃত্যু কেবল একটি মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি অবহেলা, দায়িত্বহীনতা এবং ব্যবস্থাপনার চরম ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
এই ঘটনায় নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত জরুরি। হাসপাতালের ভেতরে কী ঘটেছে, কেন চার দিন ধরে মরদেহ সেখানে পড়ে ছিল, কারা দায়িত্বে ছিল—সবকিছু খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না করলে এ ধরনের ঘটনা আবারও ঘটবে।
কারণ একটি সত্য এখন স্পষ্ট—
যেখানে একজন মানুষ হাসপাতালের ভেতরেই নিখোঁজ হয়ে চার দিন পর লাশ হয়ে ফিরে আসে, সেখানে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে।