০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবিধানের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছিলেন -খায়রুল হক

অনলাইন ডেস্ক : সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের কথা আপনাদের মনে আছে ? তিনি ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরম আস্থাশীল,পরীক্ষিত,দলীয় বিচারপতি।

২০০৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মঈনুদ্দিন ফারুকী হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। তিনি যুক্তি দেন যে ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের হাতে নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো—বিশেষ করে জনগণের সার্বভৌমত্ব ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসনের নীতির—সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটা খুবই ঠুনকো যুক্তি ছিল।

তারপর আইনজীবীর দায়ের করা সাংবিধানিক রিট থেকেই বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ায় আসে এবং ধাপে ধাপে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়ায়।

শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে তাঁর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সংবিধানের ১৩শ সংশোধনী বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা করে। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ.বি.এম. খায়রুল হক–।

এই রায়ের মাধ্যমেই দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের সূচনা হয়। এছাড়া জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে দেওয়া পূর্ববর্তী রায় বাতিল এবং সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে এমনকি তিনি আদালত থেকে যে রায় পড়ে শুনিয়েছিলেন, অবসরে যাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের সময় তাতে পরিবর্তন এনেছিলেন।

যাই হোক আমরা একটু ইতিহাসের পিছনের দিকে যাই….

১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী। তার আগে কখনও তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি সংবিধানে ছিলো না। ইতিমধ্যে নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, বিরোধীদের আস্থা সঙ্কট দেখা দেয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলো, বড় বিরোধীদল গুলো নির্বাচন বর্জন করলো। শুরু হলো অচলাবস্থা।

মার্চ ১৯৯৬ সালে ১৩ তম সংশোধনী—তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হলো।
১১৬ দিন পর আবারও জাতীয় নির্বাচন হলো।

১২ জুন ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলো আওয়ামী লীগ জয়ী হয়, শেখ হাসিনা হয় প্রধানমন্ত্রী।

তারপর ২০০৮ সালের ১৯ ডিসেম্বরে পর কখনও আর নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখেনি দেশবাসী। যে হাসিনা একদিন তত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনেই গেলেন না, তিনিই একদিন আদলত কে ব্যবহার করে নিজের সার্থে বাতিল করলেন এই ব্যবস্থা।

ফলস্বরূপ দেশবাসী জাহান্নামে বসবাস করলো ১৫ বছর।

তারপর তিনি পালিয়ে গেলেন মেম্বার অব পার্লামেন্ট সহ দল বল নিয়ে বাদ যায়নি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম খতিবও।

সংবিধানের দোহাই দিয়ে নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসলেন। ৭ জানুয়ারী ২০২৪ নির্বাচন হলো ৫ আগস্ট ২০২৪ তিব্র গনঅভ্যুত্তানে পালিয়ে গেলেন।

এখন,এই পালিয়ে যাওয়া কোন সংবিধানে ছিল? ইন্টেরিম গভমেন্ট কোন সংবিধানে ছিল? তারপর ৩ দিন কোন সরকারই ছিলো না। তারপর ড.ইউনুস আসলেন
ধারা ১০৬ অধীনে,এটা ঠুনকো উদাহরণ, এটাও অসাংবিধানিক ছিল। কিন্তু সংবিধান তো কোন ধর্মগ্রন্থ নয় যে সেটা বাতিল,স্থগিত করা যাবেনা।

জনগণের অভিপ্রায়ই শেষ পর্যন্ত সংবিধানের মূল লক্ষ্য ও ভিত্তি।

তারপর নির্বাচন হলো গণভোট আর জাতীয় নির্বাচন একই দিনে রাজি হলো রাজনৈতিক দলগুলো।

ফল হলো একটা মানা হলো আরেকটা মানা হলো না।
কেন মানা হলো না? এটা নাকি অসাংবিধানিক! এক রাষ্টপতি ২ বছরের মধ্যে ৩ সরকার প্রধানকে শপথ পড়ালেন এটা কোন সংবিধান মোতাবেক?

আজ সেই জুলাই জাতীয় সনদ,গনভোট, রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয় নিয়ে আদালতে রিট করলেন, আদালত আবার কেন অবৈধ হবে না মর্মে রুল জারি করলেন!

আদালত কি ইউনুস সরকারের সময়ে ছিল না? তখন আদালত এই বিষয় নিয়ে কেন কথা বললো না ? সেসময় সংবিধানের কোন ধারায় বিচার কাজ করলেন তারা ? কারণ ইন্টেরিম গভমেন্ট তো সংবিধানেই নেই।

যাই হোক আবারও বিচারপতি খায়রুল হক কে মনে পরে গেলো। ইতিহাস মনে পরলো।

হয়ত বেঁচে থাকলে দেখবো, একদিন শেখ হাসিনাকে আবারও বৈধ প্রধানমন্ত্রী বলে রুল জারি করবেন,ইন্টেরিম সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করবেন। তার সময়ে সকল বিচারকে বিতর্কিত বলে রায় দিবেন আদালত। এমনকি ২০২৬ সালের নির্বাচনকেও অবৈধ ঘোষণা করবেন।

তখন আওয়ামীলীগ হয়ে যাবে ফেরেস্তা।
বিএনপি -জামায়াত -এনসিপি আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াবে সেই দিনের অপেক্ষায় রইলাম।

কারণ – সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ২০১২ সালে বলেছিলেন…
“বাঘে ধরলে ছাড়ে, কিন্তু শেখ হাসিনা ধরলে কাউকে ছাড়েন না”—

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

সংবিধানের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছিলেন -খায়রুল হক

আপডেটের সময় : ০৩:৪৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক : সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের কথা আপনাদের মনে আছে ? তিনি ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরম আস্থাশীল,পরীক্ষিত,দলীয় বিচারপতি।

২০০৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মঈনুদ্দিন ফারুকী হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। তিনি যুক্তি দেন যে ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের হাতে নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো—বিশেষ করে জনগণের সার্বভৌমত্ব ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসনের নীতির—সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটা খুবই ঠুনকো যুক্তি ছিল।

তারপর আইনজীবীর দায়ের করা সাংবিধানিক রিট থেকেই বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ায় আসে এবং ধাপে ধাপে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়ায়।

শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে তাঁর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সংবিধানের ১৩শ সংশোধনী বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা করে। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ.বি.এম. খায়রুল হক–।

এই রায়ের মাধ্যমেই দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের সূচনা হয়। এছাড়া জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে দেওয়া পূর্ববর্তী রায় বাতিল এবং সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে এমনকি তিনি আদালত থেকে যে রায় পড়ে শুনিয়েছিলেন, অবসরে যাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের সময় তাতে পরিবর্তন এনেছিলেন।

যাই হোক আমরা একটু ইতিহাসের পিছনের দিকে যাই….

১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী। তার আগে কখনও তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি সংবিধানে ছিলো না। ইতিমধ্যে নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, বিরোধীদের আস্থা সঙ্কট দেখা দেয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলো, বড় বিরোধীদল গুলো নির্বাচন বর্জন করলো। শুরু হলো অচলাবস্থা।

মার্চ ১৯৯৬ সালে ১৩ তম সংশোধনী—তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হলো।
১১৬ দিন পর আবারও জাতীয় নির্বাচন হলো।

১২ জুন ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলো আওয়ামী লীগ জয়ী হয়, শেখ হাসিনা হয় প্রধানমন্ত্রী।

তারপর ২০০৮ সালের ১৯ ডিসেম্বরে পর কখনও আর নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখেনি দেশবাসী। যে হাসিনা একদিন তত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনেই গেলেন না, তিনিই একদিন আদলত কে ব্যবহার করে নিজের সার্থে বাতিল করলেন এই ব্যবস্থা।

ফলস্বরূপ দেশবাসী জাহান্নামে বসবাস করলো ১৫ বছর।

তারপর তিনি পালিয়ে গেলেন মেম্বার অব পার্লামেন্ট সহ দল বল নিয়ে বাদ যায়নি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম খতিবও।

সংবিধানের দোহাই দিয়ে নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসলেন। ৭ জানুয়ারী ২০২৪ নির্বাচন হলো ৫ আগস্ট ২০২৪ তিব্র গনঅভ্যুত্তানে পালিয়ে গেলেন।

এখন,এই পালিয়ে যাওয়া কোন সংবিধানে ছিল? ইন্টেরিম গভমেন্ট কোন সংবিধানে ছিল? তারপর ৩ দিন কোন সরকারই ছিলো না। তারপর ড.ইউনুস আসলেন
ধারা ১০৬ অধীনে,এটা ঠুনকো উদাহরণ, এটাও অসাংবিধানিক ছিল। কিন্তু সংবিধান তো কোন ধর্মগ্রন্থ নয় যে সেটা বাতিল,স্থগিত করা যাবেনা।

জনগণের অভিপ্রায়ই শেষ পর্যন্ত সংবিধানের মূল লক্ষ্য ও ভিত্তি।

তারপর নির্বাচন হলো গণভোট আর জাতীয় নির্বাচন একই দিনে রাজি হলো রাজনৈতিক দলগুলো।

ফল হলো একটা মানা হলো আরেকটা মানা হলো না।
কেন মানা হলো না? এটা নাকি অসাংবিধানিক! এক রাষ্টপতি ২ বছরের মধ্যে ৩ সরকার প্রধানকে শপথ পড়ালেন এটা কোন সংবিধান মোতাবেক?

আজ সেই জুলাই জাতীয় সনদ,গনভোট, রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয় নিয়ে আদালতে রিট করলেন, আদালত আবার কেন অবৈধ হবে না মর্মে রুল জারি করলেন!

আদালত কি ইউনুস সরকারের সময়ে ছিল না? তখন আদালত এই বিষয় নিয়ে কেন কথা বললো না ? সেসময় সংবিধানের কোন ধারায় বিচার কাজ করলেন তারা ? কারণ ইন্টেরিম গভমেন্ট তো সংবিধানেই নেই।

যাই হোক আবারও বিচারপতি খায়রুল হক কে মনে পরে গেলো। ইতিহাস মনে পরলো।

হয়ত বেঁচে থাকলে দেখবো, একদিন শেখ হাসিনাকে আবারও বৈধ প্রধানমন্ত্রী বলে রুল জারি করবেন,ইন্টেরিম সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করবেন। তার সময়ে সকল বিচারকে বিতর্কিত বলে রায় দিবেন আদালত। এমনকি ২০২৬ সালের নির্বাচনকেও অবৈধ ঘোষণা করবেন।

তখন আওয়ামীলীগ হয়ে যাবে ফেরেস্তা।
বিএনপি -জামায়াত -এনসিপি আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াবে সেই দিনের অপেক্ষায় রইলাম।

কারণ – সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ২০১২ সালে বলেছিলেন…
“বাঘে ধরলে ছাড়ে, কিন্তু শেখ হাসিনা ধরলে কাউকে ছাড়েন না”—