০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলেজ ছাত্র হত্যা কান্ডে গ্রেফতার ১

কামাল উদ্দিন হাওলাদার : নিখোঁজের সাত দিন পর কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার, হত্যাকাণ্ডে জড়িত একজন গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নিখোঁজের সাত দিন পর ফজলে রাব্বি বাবু (২১) নামে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. শাহেদ (২৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মুগুর উদ্ধারসহ নিহতের মোটরসাইকেলও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ১৭ জানুয়ারি ফজলে রাব্বি বাবু নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় পরদিন ১৮ জানুয়ারি তার বাবা বেল্লাল হোসেন চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি নং-৭৩১) করেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী, পিপিএম-সেবা’র প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে মো. শাহেদ ও মাহফুজুর রহমান ওরফে কানা মাহফুজ নামে দুইজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে ছিলেন। ধারাবাহিক অভিযানে ২৩ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ঢাকা জেলার দোহার এলাকা থেকে মো. শাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে স্থানীয়দের সহায়তায় একটি দীঘির উত্তর পাশে কিরণ নামে এক ব্যক্তির টয়লেটের সেফটি ট্যাংক থেকে নিখোঁজ বাবুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার শাহেদ হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জানায়, পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বাবুকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম এবং মোটরসাইকেল আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর মোটরসাইকেলটি ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, তিনি মোটরসাইকেলটি ৬৫ হাজার টাকায় রাকিব নামে আরেকজনের কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে রাকিবকে গ্রেপ্তার করে তার হেফাজত থেকে নিহতের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার শাহেদের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মুগুর ও আংশিক পোড়ানো একটি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত মাহফুজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

কলেজ ছাত্র হত্যা কান্ডে গ্রেফতার ১

আপডেটের সময় : ১২:৩৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

কামাল উদ্দিন হাওলাদার : নিখোঁজের সাত দিন পর কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার, হত্যাকাণ্ডে জড়িত একজন গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নিখোঁজের সাত দিন পর ফজলে রাব্বি বাবু (২১) নামে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. শাহেদ (২৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মুগুর উদ্ধারসহ নিহতের মোটরসাইকেলও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ১৭ জানুয়ারি ফজলে রাব্বি বাবু নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় পরদিন ১৮ জানুয়ারি তার বাবা বেল্লাল হোসেন চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি নং-৭৩১) করেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী, পিপিএম-সেবা’র প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে মো. শাহেদ ও মাহফুজুর রহমান ওরফে কানা মাহফুজ নামে দুইজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে ছিলেন। ধারাবাহিক অভিযানে ২৩ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ঢাকা জেলার দোহার এলাকা থেকে মো. শাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে স্থানীয়দের সহায়তায় একটি দীঘির উত্তর পাশে কিরণ নামে এক ব্যক্তির টয়লেটের সেফটি ট্যাংক থেকে নিখোঁজ বাবুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার শাহেদ হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জানায়, পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বাবুকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম এবং মোটরসাইকেল আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর মোটরসাইকেলটি ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, তিনি মোটরসাইকেলটি ৬৫ হাজার টাকায় রাকিব নামে আরেকজনের কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে রাকিবকে গ্রেপ্তার করে তার হেফাজত থেকে নিহতের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার শাহেদের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মুগুর ও আংশিক পোড়ানো একটি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত মাহফুজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।