০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাজী রফিকুল ৭৬৫ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : ০৩:৪০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯৭ টাইম ভিউ

বগুড়া : ঋণ খেলাপি হওয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার যোগ্যতা হারালেন বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) থেকে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া দুই প্রার্থীর একজন আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম। উচ্চ আদালতের এক রায়ে তাকে পুনরায় ঋণ খেলাপি হিসেবে সাব্যস্ত করায় নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী তিনি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

জানা গেছে, বেসরকারি দুটি ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধ না করায় কাজী রফিকুল ইসলাম অন্তত ৭৬৫ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হন। নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি খেলাপি ঋণ পরিশোধ না করে উচ্চ আদালত থেকে একটি স্টে অর্ডার নেন। ওই আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়, যেন তাকে সিআইবি প্রতিবেদনে ঋণ খেলাপি হিসেবে দেখানো না হয়।

তবে ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালত কাজী রফিকের পক্ষে দেয়া আগের আদেশ স্থগিত করেন। এর ফলে তিনি আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণ খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হলেন।

এর আগে ঋণ খেলাপিসহ হলফনামায় নানা অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি এলাকার বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা।

এদিকে আদালতের সর্বশেষ রায়ের খবরে এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ, এক-এগারোর পর বিএনপির দুর্দিনে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত কাজী রফিক ২০০৬ সালের পর এলাকা থেকে প্রায় উধাও ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে মাত্র দুই দিন এলাকায় গিয়েই ফিরে যান তিনি। দীর্ঘ সতেরো বছরের বেশি সময় দলের নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন চললেও তাকে পাশে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ডেভেলপার ব্যবসার আড়ালে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যাংক লুট ও জমি দখলের মাধ্যমে তিনি হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। গণমাধ্যমে তার ঋণ খেলাপির পরিমাণ ৭৬৫ কোটি টাকা বলা হলেও প্রকৃত অঙ্ক দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি বলে এলাকাবাসীর দাবি।

ঋণ খেলাপি, হলফনামায় অসঙ্গতি এবং জমি দখলসহ নানা অভিযোগে প্রার্থী হিসেবে কাজী রফিকের পাশাপাশি দল হিসেবেও বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করেন অনেক ভোটার। আদালতের রায়ে তাকে পুনরায় ঋণ খেলাপি ঘোষণা করায় এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে স্বস্তি ও উৎফুল্লতা দেখা দিয়েছে।

এর আগে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। এর ফলে তিনি ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

কাজী রফিকুল ৭৬৫ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি

আপডেটের সময় : ০৩:৪০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

বগুড়া : ঋণ খেলাপি হওয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার যোগ্যতা হারালেন বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) থেকে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া দুই প্রার্থীর একজন আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম। উচ্চ আদালতের এক রায়ে তাকে পুনরায় ঋণ খেলাপি হিসেবে সাব্যস্ত করায় নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী তিনি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

জানা গেছে, বেসরকারি দুটি ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধ না করায় কাজী রফিকুল ইসলাম অন্তত ৭৬৫ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হন। নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি খেলাপি ঋণ পরিশোধ না করে উচ্চ আদালত থেকে একটি স্টে অর্ডার নেন। ওই আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়, যেন তাকে সিআইবি প্রতিবেদনে ঋণ খেলাপি হিসেবে দেখানো না হয়।

তবে ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালত কাজী রফিকের পক্ষে দেয়া আগের আদেশ স্থগিত করেন। এর ফলে তিনি আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণ খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হলেন।

এর আগে ঋণ খেলাপিসহ হলফনামায় নানা অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি এলাকার বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা।

এদিকে আদালতের সর্বশেষ রায়ের খবরে এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ, এক-এগারোর পর বিএনপির দুর্দিনে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত কাজী রফিক ২০০৬ সালের পর এলাকা থেকে প্রায় উধাও ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে মাত্র দুই দিন এলাকায় গিয়েই ফিরে যান তিনি। দীর্ঘ সতেরো বছরের বেশি সময় দলের নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন চললেও তাকে পাশে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ডেভেলপার ব্যবসার আড়ালে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যাংক লুট ও জমি দখলের মাধ্যমে তিনি হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। গণমাধ্যমে তার ঋণ খেলাপির পরিমাণ ৭৬৫ কোটি টাকা বলা হলেও প্রকৃত অঙ্ক দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি বলে এলাকাবাসীর দাবি।

ঋণ খেলাপি, হলফনামায় অসঙ্গতি এবং জমি দখলসহ নানা অভিযোগে প্রার্থী হিসেবে কাজী রফিকের পাশাপাশি দল হিসেবেও বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করেন অনেক ভোটার। আদালতের রায়ে তাকে পুনরায় ঋণ খেলাপি ঘোষণা করায় এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে স্বস্তি ও উৎফুল্লতা দেখা দিয়েছে।

এর আগে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। এর ফলে তিনি ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার।