০৫:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিশু সাজিদকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের প্রাণপণ চেষ্টা

ডেস্ক নিউজ : ৩৫ ফুট গভীর গর্তের ভেতর থেকে ডাকছে ‘মা, মা’ বলে ডাকে।
রাজশাহীর তানোরে ৩৫ ফুট গভীর সরু গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদ এখনো উদ্ধার হয়নি। গর্তের ভেতর থেকে শিশুটির ‘মা, মা’ বলে ডাক দেওয়ার করুণ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে তার মা এবং আশপাশের মানুষ। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট রাতেও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং খননযন্ত্র দিয়ে পাশে নতুন গর্ত খোঁড়া হচ্ছে।

ঘটনা ঘটে বুধবার বেলা একটার দিকে রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে। সাজিদ তার মা রুনা খাতুনের হাত ধরে ধান কাটা মাঠের পাশ দিয়ে হাঁটছিল। তার মা আরেকটি ছোট সন্তানকে কোলে রেখেছিলেন। ঠিক সে সময় হঠাৎ ‘মা!’ বলে ডাক দিয়ে শিশুটি পায়ের নিচে খড় ঢাকা গর্তে পড়ে যায়। গর্তটি আগে ব্যবহৃত গভীর নলকূপের বোরিং, যা বর্ষা ও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আবার খুলে যায়।

শিশুটির মা রুনা খাতুন বলেন, “একটার দিকে ছেলে হাত ধরে হাঁটছিলাম। হঠাৎ মা বলে ডাক শুনে তাকাতেই দেখি ও নেই। গর্তের ভেতর থেকে ‘মা, মা’ ডাকে। আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। মানুষ ডাকতে ডাকতেই আমার ছেলে নীচে নেমে যায়।”

সাজিদের বাবা রাকিব ঢাকায় একটি জুট মিলের ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেন। ঘটনার খবর পেয়ে তিনি রওনা হয়েছেন, তবে এখনো পৌঁছাতে পারেননি।

ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী বিভাগের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম জানান, খবর পেয়ে তারা বেলা আড়াইটায় পৌঁছান। এর আগেই স্থানীয়রা উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে গর্তে কিছু মাটি ফেলে দেন।

তিনি বলেন, “বিকেল চারটা পর্যন্ত সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল, পরে লোকজনের হট্টগোলের কারণে আর স্পষ্ট সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।”

তিনি আরও জানান, “শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। একটি এক্সকাভেটর দিয়ে পাশেই নতুন গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত প্রায় ১০–১২ ফুট খোঁড়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও কয়েক ঘণ্টা লাগতে পারে।”

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, পানির স্তর গভীরে নেমে যাওয়ায় এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন নিষিদ্ধ। তবু এক বছর আগে এক ব্যক্তি পরীক্ষামূলকভাবে ৩০–৩৫ ফুট পর্যন্ত বোরিং করেছিলেন। পরে ভরাট করা হলেও বর্ষায় মাটি বসে গিয়ে আবার গভীর গর্ত তৈরি হয়, যা খড় দিয়ে ঢাকা পড়ে ছিল।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশু সাজিদকে দেখার জন্য মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তানোর থানা পুলিশ এলাকা দড়ি টেনে ঘিরে রাখে।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, “উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ভিড় বেড়েছে। মানুষ দূরে রাখতে এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে।”

শিশুটির পরিবারের আহাজারি, স্থানীয়দের উদ্বেগ এবং উদ্ধারকর্মীদের নিরলস কাজ—পুরো গ্রামজুড়ে এখন শুধু একটাই প্রার্থনা: ছোট্ট সাজিদের যেন জীবিত উদ্ধার করা যায়।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

শিশু সাজিদকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের প্রাণপণ চেষ্টা

আপডেটের সময় : ০৫:১৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

ডেস্ক নিউজ : ৩৫ ফুট গভীর গর্তের ভেতর থেকে ডাকছে ‘মা, মা’ বলে ডাকে।
রাজশাহীর তানোরে ৩৫ ফুট গভীর সরু গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদ এখনো উদ্ধার হয়নি। গর্তের ভেতর থেকে শিশুটির ‘মা, মা’ বলে ডাক দেওয়ার করুণ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে তার মা এবং আশপাশের মানুষ। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট রাতেও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং খননযন্ত্র দিয়ে পাশে নতুন গর্ত খোঁড়া হচ্ছে।

ঘটনা ঘটে বুধবার বেলা একটার দিকে রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে। সাজিদ তার মা রুনা খাতুনের হাত ধরে ধান কাটা মাঠের পাশ দিয়ে হাঁটছিল। তার মা আরেকটি ছোট সন্তানকে কোলে রেখেছিলেন। ঠিক সে সময় হঠাৎ ‘মা!’ বলে ডাক দিয়ে শিশুটি পায়ের নিচে খড় ঢাকা গর্তে পড়ে যায়। গর্তটি আগে ব্যবহৃত গভীর নলকূপের বোরিং, যা বর্ষা ও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আবার খুলে যায়।

শিশুটির মা রুনা খাতুন বলেন, “একটার দিকে ছেলে হাত ধরে হাঁটছিলাম। হঠাৎ মা বলে ডাক শুনে তাকাতেই দেখি ও নেই। গর্তের ভেতর থেকে ‘মা, মা’ ডাকে। আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। মানুষ ডাকতে ডাকতেই আমার ছেলে নীচে নেমে যায়।”

সাজিদের বাবা রাকিব ঢাকায় একটি জুট মিলের ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেন। ঘটনার খবর পেয়ে তিনি রওনা হয়েছেন, তবে এখনো পৌঁছাতে পারেননি।

ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী বিভাগের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম জানান, খবর পেয়ে তারা বেলা আড়াইটায় পৌঁছান। এর আগেই স্থানীয়রা উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে গর্তে কিছু মাটি ফেলে দেন।

তিনি বলেন, “বিকেল চারটা পর্যন্ত সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল, পরে লোকজনের হট্টগোলের কারণে আর স্পষ্ট সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।”

তিনি আরও জানান, “শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। একটি এক্সকাভেটর দিয়ে পাশেই নতুন গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত প্রায় ১০–১২ ফুট খোঁড়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও কয়েক ঘণ্টা লাগতে পারে।”

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, পানির স্তর গভীরে নেমে যাওয়ায় এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন নিষিদ্ধ। তবু এক বছর আগে এক ব্যক্তি পরীক্ষামূলকভাবে ৩০–৩৫ ফুট পর্যন্ত বোরিং করেছিলেন। পরে ভরাট করা হলেও বর্ষায় মাটি বসে গিয়ে আবার গভীর গর্ত তৈরি হয়, যা খড় দিয়ে ঢাকা পড়ে ছিল।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশু সাজিদকে দেখার জন্য মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তানোর থানা পুলিশ এলাকা দড়ি টেনে ঘিরে রাখে।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, “উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ভিড় বেড়েছে। মানুষ দূরে রাখতে এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে।”

শিশুটির পরিবারের আহাজারি, স্থানীয়দের উদ্বেগ এবং উদ্ধারকর্মীদের নিরলস কাজ—পুরো গ্রামজুড়ে এখন শুধু একটাই প্রার্থনা: ছোট্ট সাজিদের যেন জীবিত উদ্ধার করা যায়।